March 7, 2026
0 Comments
গোড়ার কথা
ধরা যাক একটি ছোট শহরের গৃহবধূ প্রতিমাদির কথাই। আজকের দুনিয়ায় যিনি হোমমেকার। বিয়ে হয়েছিল প্রায় আড়াই দশক আগে। স্বামী সরকারি চাকুরে। অবসর নিয়েছেন সম্প্রতি। তাঁদের কোনও সন্তান নেই। পড়াশোনার পাশাপাশি পৈতৃক সংসারের আংশিক ভার সামলেছেন। স্বামীর সংসারে আরও কয়েকজন মহিলা সদস্য থাকলেও তাঁরই কাঁধে চেপেছিল প্রায় পুরোটা। দীর্ঘ দিন ধরে দাঁড়িয়ে রান্না করতে করতে কবে যে পিঠ ও হাঁটুর সমস্যা সহ্যের সীমা ছাড়াচ্ছিল, সে ভাবে আর খেয়াল করেননি।
মাঝে মধ্যে সমস্যা হলেও আমল দেননি তিনি। কদা কচ্চিৎ ওষুধ খাওয়া বা নানা রকমের পরামর্শ মতো তেল মালিশ করেই দিব্যি চলছিল। কিছুদিনের ভোগান্তি। তারপরে আবার ঠিক দাঁড়িয়ে পড়া হাতা -খুন্তি-ঝাঁটা কিংবা টিফিনের কৌটো হাতে।
আসলে কিন্তু দিব্যি চলেনি। কাজের ফাঁকে তিনি বুঝতেই পারেননি, একদিন উঠে দাঁড়াতেই চোখ দিয়ে জল পড়বে। আত্মীয়রা আছেন বটে পাশে। কিন্তু আগে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা শারীরিক, মানসিক বা আর্থিক ভাবে যতটা সহজ ছিল, এখন আর নেই। এই বয়সে অপারেশন! ভাবলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তিনি।
নারী, কিন্তু অবলা নন
শুধু তিনিই নন, আমাদের আশপাশে খেয়াল করলেই অন্তত জনা দশেক এমন গৃহবধূর দেখা মেলে।
কথায় বলে, বাঙালি নারী দশভূজা। তবে শুধু বাঙালি কেন, সংসারে ভারতীয় নারীর অবদান কম কী? বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সংসারের দাঁড় টানা থেকে শক্ত করে হাল ধরে রাখা, সবেতেই অগ্রণী তাঁরা। কোথাও যদিও বা সেই নারীর অবদান স্বীকার করা হয়, তাঁদের আর্থিক ক্ষমতায়ন (ফিনান্সিয়াল এমপাওয়ারমেন্ট) কতটা গুরুত্ব পায় সমাজে? অথবা তাঁর নিজের কাছেই? যিনি আর্থিক ভাবে সক্ষম, তাঁর কথা আলাদা। আর যিনি সংসারে শ্রম দিয়ে চলেন, তাঁর নিজের ভবিষ্যৎ?
আন্দোলন থেকে অর্জন: আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ইতিহাস
আমরা যখন এই আলোচনা করছি, সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে ১১৫তম আন্তর্জাতিক নারী দিবস। কাজের সময় সংঙ্কোচন, সঠিক মজুরি ও ভোটের অধিকার নিয়ে যে নারী আন্দোলন শুরু হয় ১৯০৮ সালে নিউ ইয়র্ক সিটিতে। ১৯০৯ সালে আমেরিকায় প্রথম নারী দিবস পালিত হয়। ১৯১০ সালে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ক্লারা জেটকিন প্রথমবার আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালনের ডাক দেন। ১৯১১ সালের ১৯ মার্চ অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, জার্মানি ও সুইৎজ়ারল্যান্ডে তা পালিত হয়। ১৯১৭ সালে রাশিয়ার নারীরা জুলিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ২৩ ফেব্রুয়ারি, শেষ রবিবারে ধর্মঘট শুরু করেছিলেন। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আবার সেই তারিখটি ছিল ৮ মার্চ। ১৯৭৫ সালে আন্ত্রজাতিক নারী দিবস পালন স্বীকৃতি পেল রাষ্ট্রপুঞ্জ বা ইউএন-এ। সেই ১৯১১ সাল থেকে শুরু। প্রতি বছর বিশ্ব জুড়ে এই দিনটি পালিত হয় নারীর অধিকার রক্ষার ও অর্জনের দাবিতে।
আইনি অধিকারে এখনও বৈষম্যের দেয়াল
সমান ও অন্যান্য অধিকারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন এখনও বহমান। কারণ একবিংশ শতাব্দীতে তাও কিন্তু কোনও দেশেই পুরুষ ও নারীর আইনি অধিকারের ফারাক কমেনি। রাষ্ট্রপুঞ্জের শাখা ইউএন উইমেন-এর সমীক্ষা বলছে, এই ২০২৬ সালে দাঁড়িয়েও বিশ্বে একজন পুরুষের যে আইনি অধিকার রয়েছে, তার মাত্র ৬৪% রয়েছে নারীর। জীবনের মৌলিক অধিকার (কাজ, অর্থ, সুরক্ষা, পরিবার, সম্পত্তি, ব্যবসা, অবসর ইত্যাদি) আইন কার্যত সবটা নারীর পক্ষে নেই।
অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা: সময়ের সবচেয়ে জরুরি দাবি
বেতন বা কোনও আর্থিক সুবিধা নেই, সমাজে এমন কাজের দায়ভার মহিলাদেরই বেশি। বলছে ওই সমীক্ষা। যেমন বাড়ির কাজের ক্ষেত্রে একজন মহিলাকে গড়ে পুরুষ সদস্যের চেয়ে ১-৩ ঘণ্টা বেশি কাজ করতে হয়। আবার শিশু, বয়স্ক বা অসুস্থের তদারকির জন্য পুরুষদের চেয়ে মহিলাদের দিনে ২-১০ গুণ বেশি সময় দিতে হয়।
স্বপ্নের সংসার লক্ষ্য, কিন্তু তাঁর ভবিষ্যৎ কতটা সুরক্ষিত?
বলতে গেলে সকলের জন্য চিন্তা-পরিকল্পনার দায়িত্ব সংসারে আসা নতুন বউয়েরই। এমন কি কেউ ভাড়া বাড়িতে সংসার পাতলেও সকলেই চান নিজের আস্তানা গড়তে। সেই ইচ্ছে পূরণ করতে স্বামী রোজগার করলে তার প্রতিটি টাকা সাংসারিক খরচে ব্যয় করতে সতর্ক থাকতে হয় স্বামী-স্ত্রী, উভয়কে। সঙ্গে রয়েছে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার সোপান তৈরির গুরুভারও। যেহেতু স্বামীর রোজগার গুরুত্বপূর্ণ, তাই তাঁর স্বাস্থ্যের প্রতি খেয়াল রাখার প্রবণতাও বেশি। মাঝখানে হাল ধরে রাখা পরিবারের নারী সদস্যটির কথা কতটা অগ্রাধিকার পায়? বিশেষ করে প্রতিমাদির মতো হোমমেকার-দের? অনেক মহিলাই আবার নিজেকে আড়ালে রাখতেও পছন্দ করেন।
অবসর যখন আসে, প্রস্তুতি কি থাকে?
এক দিন সন্তান বাইরের জগতে পা রাখে। অবসর নেন গৃহকর্তা। সাংসারিক ব্যস্ততা কমে আসে। হোমমেকার-এরও অবসর জীবন থাকার কথা। তখন হাতে বাড়তি সময় এলেও, মন চাইলেও ঘুরতে যাওয়ার উপায় কতটা? হয়ত শরীরে থাবা বসাতে শুরু করেছে নানা রোগ-ব্যাধি। ডাক্তার-হাসপাতালে ছোটাছুটি। আর যদি বা শরীর সঙ্গ দেয় কিন্তু আর্থিক স্বচ্ছ্বলতা না থাকে, অবসরজীবনে নিজের শখ পূরণ হবে কী করে? আর যদি প্রতিমাদির মতো নিঃসন্তান হলে দেখার আপন লোক কজনই বা থাকেন!
উপায় কি একবারেই ছিল না?
হাজারটা সাংসারিক দায়, চাপ সামলেও ছিল। ঠিক যেমন শিশু প্রথম হাঁটতে শেঁখে, সে ভাবেই সেই নতুন সংসার শুরুর সময়েই সঠিক পরিকল্পনা করে এগোতে পারলে সহজেই কিন্তু এই বাধা এড়ানো যায়। পরিবারকে তাঁর পাশে থাকতে হবে। নিজেকে নিয়ে ভাবতে হবে নারীকেও। তাহলেই হোমমেকার-এরও আর্থিক স্বাধীনতা সহ নানা রক্ষাকবচ তৈরি সম্ভব। যে ভিতের উপর ভিত্তি করে তাঁর নানা প্রয়োজন ও অবসরকালীন খরচ মেটানোর ইমারতও গড়া সম্ভব। আবার আগেও কোনও আপৎকালীন দরকার বা ইমার্জেন্সি হলে অর্থ সংস্থানেও সমস্যা হবে না।
আর্থিক পরিকল্পনা: নিরাপদ ভবিষ্যতের প্রথম ধাপ
প্রথম থেকেই প্রতি মাসে অল্পস্বল্প করে হলেও নিয়মিত ও ধারাবাহিক সঞ্চয় ও লগ্নি করে যেতে হবে। প্রতিমাদির জন্যও তা করা হলে এতদিনে তিল তিল করে জমা অর্থ গড়ত একটি বড় তহবিল। অথবা তার এ্কাংশ খরচ করে আগেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও সেরে ফেলা যেত। অথবা এখন অবসরকালেও তিনি তাঁর অর্থ ভাণ্ডার থেকে নিজের ইচ্ছের খরচ জোগাতে পারতেন।
সঞ্চয় আর লগ্নি কি একই
নাহ। সম্পূর্ণ আলাদা। সঞ্চয় দরকার। কিন্তু শুধু সঞ্চয়ই ভবিষ্যতের সবটা মেটাতে পারে না। সহজ ভাবে বললে, লগ্নি আপনাকে মূল্যবৃদ্ধি হার বা ইনফ্লেশনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভবিষ্যতের খরচ মেটাতে সাহায্য করবে। সঞ্চয় সেই সামর্থ্য না-ও দিতে পারে। তবে সঞ্চয় হল গোড়ার ধাপ।
ধরুন, আপনি দু’বছর পরে কোথাও বেড়াতে যাবেন বা কিছু কিনবেন বা অপারেশন করাবেন। তার মধ্যে সেই খরচ বা দাম তো এক থাকবে না। স্বাভাবিক ভাবে জিনিসপত্রের দাম বাড়ে। সে ভাবেই সব কিছুর মূল্যবৃদ্ধি ঘটবে। তাই টাকা যদি শুধু সঞ্চয় করেন বা সেভিংস অ্যাকাউন্টেই ফেলে রাখেন, নানা সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, সেই বাড়তি খরচ বা দাম তা দিয়ে হয়তো মেটানো যাচ্ছে না। যেটা তুলনায় সহজ লগ্নির মাধ্যমে। তবে লগ্নির ক্ষেত্রে অবশ্যই ঝুঁকি রয়েছে। সেই ঝুঁকি ভালো করে না বুঝে কখনওই লগ্নি করা উচিত নয়।
বিমার কবচ
একই ভাবে প্রয়োজন স্বাস্থ্যবিমাও (health insurance) । শুধু পরিবারের রোজগেরে সদস্য বা সন্তানই নয়, সমান গুরুত্ব দিয়ে হোমমেকার-কেও তাতে যুক্ত করতেই হবে। প্রিমিয়াম খরচ বেশি পড়লেও খতিয়ে দেখা যেতে পারে স্বাস্থ্যবিমায় মাতৃত্বকালীন সুবিধা (maternity benefit) বা সন্তানের জন্মের প্রয়োজনীয় খরচের বিষয়টি অন্তর্ভূক্ত করাও।
অর্থের জোগান
প্রশ্ন উঠতে পারে, হোমমেকার তো রোজগার করেন না, অর্থ কে দেবে? ঠিক। কিন্তু সাংসারিক আয় রয়েছে। তা ছাড়া সংসারে শ্রম দিলে, তাঁর বেতন নেই। তাই সাংসারিক খরচের অর্থের জোগানের হিসাবে তাঁর জন্যও আলাদা বরাদ্দ জরুরি। যদি সেটা না করে থাকেন, এই আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রাক্কালেই তার সূচনা হোক না, মন্দ কী! যা করতে পারতেন প্রতিমাদির পরিবার।
অনেক সময় স্ত্রীর নামে আলাদা করে নানা সম্পত্তি রাখার যে রেওয়াজ রয়েছে, সেটিকও ভবিষ্যৎ চাহিদার প্রেক্ষিতে ভেবে প্ল্যান করে বিনিয়োগ করা যেতে পারে। তাহলে লক্ষ্যে পৌঁছনো অনেক সহজ ও জোরদার হওয়ারই সম্ভাবনা।
শুরু তো শূন্য থেকেই হয় — নিয়মিত পদক্ষেপেই গড়ে ওঠে সম্পদ
নারী, পুরুষ নির্বিশেষে সকলেই ভাবেন কোথা থেকে শুরু করব! কিংবা হাতে টাকা তো অল্প, তা দিয়ে কতটুকু তহবিলই বা আর গড়া যাবে! একবার ভাবুন তো শূন্য না থাকলে পরের নম্বর শুরু হত কোথা থেকে? ছোট ছোট পা ফেলেই তো বড় পথ পাড়ি দেওয়া যায়। তবে শর্ত মাত্র দুটোই – ১) তা হতেই হবে নিয়মিত এবং ২) দীর্ঘমেয়াদি। একমাত্র তাহলেই আপনার ধন ভাণ্ডার তৈরির সম্ভাবনা অনেক বেশি। নচেৎ নয়। আর্থিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে যাকে সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান (SIP)বলা হয়ে থাকে। আর এখন তো ইকুইটি (equity) এবং মিউচুয়াল ফান্ড (mutual fund) দুটোতেই এই সিপ মাধমে বিনিয়োগ করা যায়।
পরিকল্পনা আগে, লগ্নির গন্তব্যের ভাবনা পরে
অনেককে আগেই বলতে দেখেছি, “এটায় লগ্নি করুন।” “ওটার কথা ভেবে দেখুন।” কতকটা, “ঘুরতে যাব ট্রেনে না প্লেনে চেপে?” সেটা দরকার। কিন্তু আগে তো কোথায় যাব, সেই প্ল্যান-টা ঠিক করতে হবে। কদ্দিনের জন্য যাব, তার উপরে নির্ভর করবে খরচের অঙ্ক। তাই প্রয়োজনমাফিক পরিকল্পনা হল প্রথম। পরে কোথায় (শেয়ার না বন্ড, নাকি মিউচুয়াল ফান্ড) কী ভাবে (এককালীন নাকি এসআইপি) টাকা রাখব, সেগুলি ইনস্ট্রুমেন্ট বা হাতিয়ার।
আজ থেকেই শুরু হোক আর্থিক স্বাধীনতার অঙ্গীকার
ইংরেজি নববর্ষ পেরিয়ে গিয়েছে। ক্ষতি কী। বাংলা নববর্ষ আসছে। তার মাঝে রইল আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এই সন্ধিক্ষণেই হোমমেকার-এর জন্য পরিকল্পনা শুরু হোক। তিনি নিজেই শপথ নিন বা তাঁর পরিবার। এটাই হোক সবার পক্ষ থেকে এ বারের আন্তর্জাতিক নারী দিবস (International Womens’ Day) – এর নতুন বার্তা।
Share With
I'm a cool paragraph that lives inside of an even cooler modal. Wins!
In case you didnt know, you can open your account online within 24 hours. Offline account opening takes up to 4 working days. If you wish to open your account offline, fill and sign the forms using a black/blue ballpoint pen. Please fill in the email and mobile number of the applicant to avoid account opening delays.
Please enter your details and password
New to Dayco?
Please enter your details and password
New to Dayco?
Your details were successfully received.
Our Team is working constantly on improving our user experience and your feedback really means a lot.
App Link Send to your mobile number successfully.
All your Questions have been recorded
All your Questions have been recorded
Thank you for your response. We'll get in touch with you at the earlisest for your investment planning needs
Thank You for your interest in our Moderate Equity Portfolio. Please find below the credentials to track this portfolio:
User ID: mockmod@daycoindia.com
Password: abcd@1234
Risk profiling is crucial for identifying and managing potential risks in investment decisions. Please carry out your risk profiling before making any investment decisions.
Please enter your details to download/print the report
Please enter your details to download/print the report
Please enter your details to download/print the report
Please enter your details to download/print the report
Please enter your details to download/print the report
Please Select an option from below
Please Select an option from below
We appreciate your interest in our services. Our team will be in touch with you shortly.
ClosePlease enter your details in the fields provided
Calculation report has been sent to your mail id successfully
This will remove your answers from all questions and cannot be undone.
Leave a Reply