March 20, 2026
0 Comments
লক্ষ্য
ঘাম ঝরানো অর্থ সঞ্চয় ও লগ্নি করার ক্ষেত্রে যে কেউই সচেতন থাকতেই আগ্রহী। তেমনই লগ্নি সুরক্ষিত থাকুক, সকলেই চান। কিন্তু নিজের লক্ষ্যে পৌঁছতে সকলের স্টান্স যে একই হবে, এমন নয়।
লগ্নিকারীর ধরন
যিনি অ্যাগ্রেসিভ, তিনিও যেমন চান তাঁর পুঁজি বাড়তে বাড়তে তাঁর জীবনযাত্রা বা লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছনোর মতো একটি তহবিল গড়ে উঠুক এবং সে জন্য তিনি প্রয়োজনে কিছুটা বাড়তি ঝুঁকিও নিতে প্রস্তুত, আবার যিনি কিছুটা রক্ষণাত্মক বা রক্ষণশীল, জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে তাঁরও লক্ষ্য পুঁজি কয়েকগুণ অন্তত বাড়ানো, তবে তিনি ঝুঁকি নিতে অনীহ এবং অবসরের পরে সেই তহবিল থেকে নিয়মিত আয় বজায় রেখে অবসরকালীন জীবনযাত্রা নির্বিঘ্নে চালিয়ে যেতে চান।
সুতরাং, যাঁরা স্থির ও নিয়মিত আয়ের খোঁজ করছেন, ঝুঁকি কম রাখতে চান এবং অবসরকালীন তহবিল গড়ে তুলতে চান, তাঁদের জন্য বন্ড একটি উপযুক্ত বিনিয়োগের মাধ্যম হতে পারে।
পথ কি এক
দুই ধরনের লগ্নিকারীর ভাবনাই কিন্তু বাস্তব। তবে পথ আলাদা। তাই কৌশলও। প্রথমজন তহবিল বাড়াতে প্রয়োজনে ঝুঁকি নিতে তৈরি। ফলে তিনি ইক্যুইটি বা মিউচুয়াল ফান্ড বা লগ্নির আরও কিছুটা ঝুঁকির অন্যান্য খাতে জমা করতে পারেন।
দ্বিতীয়জন খানিকটা সাবেকী। তবে শুধুই হয়তো ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজ়িটের উপরই ভরসা করতে চান না। আবার রক্ষণাত্মক বলে পরিস্থিতি অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ার বাজারের উপরেও পুরোপুরি ভরসা করতে চান না। লগ্নির সুরক্ষার উপর একটু বেশিই জোর দেন।
হাতের কাছের উদাহরণ
ধরা যাক, সুকমল দাশগুপ্তের কথাই। কর্মজীবনে সঞ্চয় করেছেন। করেছেন লগ্নিও। অবসরের আগে পারিবারিক সম্পত্তির কেনাবেচায় হাতে এসেছিল কিছু বাড়তি অর্থও। তিনি আগে বলা দ্বিতীয় ধারার প্রতিনিধি। যিনি রক্ষণ সামলে রেখেই মাঝমাঠ পেরিয়ে গোল (এ ক্ষেত্রে নিজের অভীষ্ট লক্ষ্যে) দেওয়ার নীতিতেই চলেন। চেয়েছিলেন, অবসরজীবনের ভালোলাগার স্বপ্নপূরণের পাশাপাশি অপ্রত্যাশিত ওঠাপড়ার অভিঘাত সামলানোর জন্য ভরসাযোগ্য লগ্নির গন্তব্য। তাই ব্যাঙ্ক বা শেয়ার বাজারে অল্প ও মেপে পা রাখলেও তাঁর লগ্নির মূল গন্তব্য হিসাবে বেছে নিয়েছিলেন বন্ড বা ঋণপত্রকেই।
পরিচিতি এমন অনেকেই
একটু হয়তো ভালো করে নজর করলেই সুকমলবাবুর মতো কিছুটা রক্ষণশীল কিন্তু আর্থিক পরিকল্পনা তৈরির ক্ষেত্রে সচেতন এমন অনেক মানুষজনকেই আমরা চারপাশে দেখতে পাবো। তাঁরা হয় আমাদের আত্মীয়, নয়তো বন্ধু কিংবা পড়শি যে কেউই হতে পারেন। এই পর্বে আমরা তাঁদের চাহিদা মতো অন্যতম একটি লগ্নি-প্রকল্প, বন্ডের সম্পর্কে আলোচনা করব। চেষ্টা করব, এ নিয়ে সকলকে একটা অন্তত প্রাথমিক ধারণা দেওয়ার। তারপরে যদি কেউ এ নিয়ে বিশদে বুঝে লগ্নি করতে চান, তাহলে তাঁরা আর্থিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেবেন। কারণ প্রত্যেকের আর্থিক ক্ষমতা, চাহিদা এবং ভবিষ্যেৎ পরিকল্পনা ভিন্ন। ফলে প্রতিটি ক্ষেত্র আলাদা করে বিচার করে তবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
বন্ড কী
এটিও একটি আর্থিক প্রকল্প। যাকে চলতি কথায় বলা যায় ঋণপত্র। অনেকটা ব্যাঙ্কের আমানতের মতো। ব্যাঙ্কে আমি-আপনি যখন আমাদের অর্থ রাখি সেটিকে আমানত বলে। সেই আমানতের রকমভেদ বিভিন্ন হতে পারে। আমাদের ব্যাঙ্ক সে জন্য বিভিন্ন হারে সুদ দেয়। সেই অর্থের তহবিল থেকে ব্যাঙ্ক শিল্প-সংস্থা, সম্পত্তির ক্রেতা বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে কাউকে ঋণ দিয়ে আয় করে।
সে রকমই বন্ডের ক্ষেত্রে সরকার, সরকারি সংস্থা বা সরকার অধিগৃহীত সংস্থা তাদের কোনও প্রকল্পের মূলধন সংগ্রহের জন্য লগ্নিকারীর কাছে থেকে ঋণ নেয়। লগ্নিকারীরা তাদের সেই সব বন্ড বা ঋণপত্র কেনেন। একই ভাবে ও একই উদ্দেশ্যে বেসরকারি সংস্থাও বাজারে ঋণপত্র ছেড়ে মূলধন সংগ্রহ করে থাকে।
ঝুঁকির তফাৎ
সরাসরি শেয়ার বাজারে লগ্নির ক্ষেত্রে স্বাভাবিক নিয়মেই কিছুটা ঝুঁকি থাকে। সংশ্লিষ্ট সংস্থার ব্যবসা, বাজারের পরিস্থিতি, দেশের আর্থিক অবস্থা, বিশ্বের পরিস্থিতি-উন্নতি- অবনতি, এমন নানা কারণে শেয়ার বাজারে ওঠাপড়া লেগেই থাকে। যদিও দীর্ঘমেয়াদে লগ্নিকারীদের ঘরে মুনাফা তোলার সম্ভাবনা বেশি হয়। ফলে তাঁরা একই সঙ্গে কম ঝুঁকি, বেশি সুরক্ষিত কিংবা স্থায়ী আয়ের খোঁজ করেন। আর সে ক্ষেত্রেই অন্যতম লগ্নির গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে বন্ড।
একটু তলিয়ে দেখা যাক
বন্ডের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে। সেই সময়সীমার পরে সংস্থাটি আপনাকে মূল লগ্নির অর্থ ফেরত দেবে। আবার মূলধনের উপরে সুদও (বা এই ব্যবসার পরিভাষায় অনেক সময় যাকে কুপন রেট-ও বলা হয়) দেওয়া হয়। সেটি দু রকমের হতে পারে। স্থির (fixed) বা পরিবর্তনশীল (floating)। গোটাটাই অনেকটা ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজ়িট বা দীর্ঘমেয়াদি আমানতের মতো। তবে ফারাক রয়েছে খানিকটা। সেটা আমরা পরে আলোচনা করব।
ইল্ড (Yield) কী
বন্ডে শুধু কুপন রেট দেখলেই হবে না, ইল্ড বা প্রকৃত রিটার্নও বোঝা জরুরি। অনেক সময় বন্ড বাজারে তার ফেস ভ্যালুর বেশি বা কম দামে কেনাবেচা হয়। ফলে আসল আয় (yield) কুপন রেটের থেকে আলাদা হতে পারে।
যদি কম দামে বন্ড কেনা যায়, তাহলে ইল্ড বেশি হয়। আর বেশি দামে কিনলে ইল্ড কমে যায়। তাই বিনিয়োগের আগে ইল্ড টু ম্যাচিউরিটি (YTM) দেখে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
দ্বিগুণ মজার সম্ভাবনা
বন্ডের ক্ষেত্রে শুধু আগের ঘোষিত সুদবাবদই আয় হয়, এমন নয়। সুদের হার স্থির থাকলেও বাড়তে পারে বন্ডের দাম। সে ক্ষেত্রে লগ্নি থেকে আয় বাড়বে।
তবে তা কি কমতে পারে? হ্যাঁ, কমতেও পারে। বাজারে সুদের হার বেড়ে গেলে সাধারণত পুরনো বন্ডের দাম কমে যায়। কারণ নতুন বন্ডে তখন বেশি সুদের সুযোগ থাকে, ফলে পুরনো কম সুদের বন্ডের চাহিদা কমে। আবার সংস্থার আর্থিক অবস্থার অবনতি বা ক্রেডিট রেটিং কমে গেলেও বন্ডের দাম পড়তে পারে। তাই মেয়াদ শেষের আগে যদি বন্ড বিক্রি করতে চান, তখন লাভের পাশাপাশি ক্ষতির সম্ভাবনাও থাকতে পারে।
ঝুঁকির প্রশ্ন
সেই কৌতূহল স্বাভাবিক। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ক্ষেত্রে ঝুঁকি তুলনায় কম। যেমন লগ্নিকারী যদি পুরো মেয়াদকাল বন্ডটি নিজের কাছেই ধরে রাখেন, তাহলে মেয়াদ শেষে লগ্নির টাকা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সেই সঙ্গে ঋণপত্রটি কেনার সময়ে বলা হারে সুদ (যা সাধারণ ভাবে ফিক্সড ডিপোজ়িট বা ডাকঘরের মেয়াদি আমানতের সুদের চেয়ে বেশি হয়) পাওয়া যায়।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—সব বন্ডের ঝুঁকি এক নয়। সিকিউরড (Secured) বন্ডের ক্ষেত্রে সংস্থার কোনও সম্পত্তি বা সম্পদ বন্ধক রাখা থাকে, ফলে সংস্থা সমস্যায় পড়লেও লগ্নিকারীর টাকা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি। অন্যদিকে আনসিকিউরড (Unsecured) বন্ডে কোনও বন্ধক থাকে না, তাই সেখানে ঝুঁকি কিছুটা বেশি হতে পারে এবং সাধারণত সুদের হারও বেশি দেওয়া হয়।
সরকারি বন্ড সাধারণত তুলনামূলক বেশি সুরক্ষিত হলেও সুদের হার কিছুটা কম হতে পারে। অন্যদিকে কর্পোরেট বন্ডে সুদের হার বেশি হলেও ঝুঁকিও তুলনামূলক বেশি থাকে।
তবে কেউ যদি মেয়াদের মধ্যে সেটি লেনদেনের জন্য বন্ডের বাজারে বিক্রি করতে চান, সেটি শেয়ার বাজারে নথিভুক্ত হলে বিক্রি করা সম্ভব। যদিও, ভারতে বন্ড বাজার শেয়ার বাজারের মতো ততটা সক্রিয় নয়, ফলে সব সময় সহজে ক্রেতা পাওয়া নাও যেতে পারে।
ব্যাঙ্কের সঙ্গে মিল বা তফাৎ
দুই ক্ষেত্রে আমানতের উপরে সুদ মেলে। ব্যাঙ্কে সরাসরি কিছু অর্থ আমানত হিসাবে রাখা হয়। বন্ডের ক্ষেত্রে প্রতিটির ফেস ভ্যালু থাকে। মিউচুয়াল ফান্ডের মতো লগ্নিকারী তাঁর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যতটা পুঁজি ঢালেন, সেই ফেস ভ্যালুর ভিত্তিতে বন্ডের ইউনিট কিনতে হয় তাঁকে।
ব্যাঙ্কের ক্ষেত্রে মেয়াদ অনুযায়ী সুদের হার নির্দিষ্ট। এক্ষেত্রে স্থির ও পরিবর্তনশীল, উভয় ধরনের সুদের হারই রয়েছে। মূল লগ্নি এবং সুদ মিলিয়ে মোট আমানতের সর্বোচ্চ পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আমানত সরকারি গ্যারান্টিযুক্ত। বন্ডের ক্ষেত্রে লগ্নিকারীর আমানত কেন্দ্রীয় সরকার, রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার বা কোনও সরকার অনুমোদিত সংস্থার দ্বারা গ্যারান্টিযুক্ত নয়।
ক্রেডিট রেটিং
শেয়ার বাজারে নথিভুক্ত প্রতিটি বন্ডেরই একটি রেটিং থাকে। যা সেখানে টাকা ঢালার ঝুঁকির প্রেক্ষিতে স্থির করে বিভিন্ন ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি। উঁচু রেটিং মানে কম ঝুঁকি। আর কম রেটিং মানে ঝুঁকি বেশি। যেমন চড়া রেটিং থাকলে সুদের হার কম হতে পারে। কারণ তাতে ঝুঁকি কম। উল্টোটা হলে ঝুঁকির ধাক্কা কমাতে বা অফসেট করতে সুদের হারও চড়া থাকতে পারে।
লগ্নির আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
বন্ডে লগ্নি করার সময়ে শুধুমাত্র সেটির রেটিংয়ের উপর ভরসা করবেন না বা নজরে রাখবেন না। সেটি বিভিন্ন সংস্থা দিয়ে থাকে। এবং সেটি পরিবর্তনশীলও হতে পারে। সংস্থাটি ঠিক সময়ে ঋণ লগ্নিকারীদের ফেরত দিতে পারেন কি না, সেটার অন্তত একটা আন্দাজ পেতে বন্ডের অতীত ইস্যু, সেগুলি কতটা লাভনজক ছিল, এ সব খতিয়ে দেখুন। ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা ও ধার নেওয়ার অন্যান্য মাপকাঠি থেকেই সংশ্লিষ্ট সংস্থাটির আর্থিক হালের মূল্যায়ন করতে পারেন।
কতদিন পর্যন্ত বন্ডে লগ্নি করতে চান কিংবা সরকারি না কর্পোরেট কাদের বন্ডে লগ্নি করতে চান, সেটাও ভেবে দেখতে হবে।
মনে রাখবেন, যে কোনও লগ্নিতেই কিন্তু কম-বেশি ঝুঁকি থাকে। যেমন মেয়াদ শেষের আগে বন্ড বিক্রি করতে চাইলে এবং বাজারের পরিস্থিতি অনুকূল না থাকলে লগ্নির একাংশ খোয়াতেও হতে পারে। সংস্থার ঋণ নেওয়ার ক্ষমতা বা বাজারের পরিস্থিতির উপরেও বন্ডের দামের হেরফের হতে পারে।
খেয়াল রাখতে হবে যখন বাজারে সুদের হার বাড়ে, তখন বন্ডের দাম পড়ে। আর সুদ কমলে উল্টোটা। আবার সংস্থা মেয়াদ শেষের আগেই লগ্নিকারীদের কাছ থেকে বন্ড কিনে নিতে চাইলে অর্থাৎ, ফেরত নিতে পারে। সে ক্ষেত্রে আপনি একই বন্ডে একই আয়ের আশায় লগ্নি করার সুযোগ নাও পেতে পারেন।
বন্ড থেকে পাওয়া সুদের উপর সাধারণত আয়কর (Income Tax) দিতে হয়, যা আপনার আয়কর স্ল্যাব অনুযায়ী ধার্য হয়। আবার বন্ড মেয়াদ পূরণের আগে বিক্রি করলে ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্সও প্রযোজ্য হতে পারে। তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে করের সুবিধাও পাওয়া যায়। যেমন 54EC বন্ডে বিনিয়োগ করলে নির্দিষ্ট শর্তে মূলধনী লাভের উপর কর ছাড় পাওয়া যায়। এছাড়া ট্যাক্স-ফ্রি বন্ডের ক্ষেত্রে সুদের উপর কোনও আয়কর দিতে হয় না, যা কর-পরিকল্পনার জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে। তাই বিনিয়োগের আগে করের প্রভাব ভালো করে বুঝে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
তবুও অন্যতম হাতিয়ার
বন্ডের বাজার তুলনামূলক ভাবে স্থিতিশীল। কম ঝুঁকিপূর্ণ। এবং নিয়মিত ও নির্দিষ্ট হারে আয়ের সুযোগের দরজাও খুলে দেয় ঋণপত্র। ফলে যাঁরা সরাসরি শেয়ার বাজারে লগ্নির মতো বাড়তি ঝুঁকি নিতে চান না, তাঁরা এই বিকল্প পথটি খতিয়ে দেখতে পারেন। তবে পাকাপাকি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই আর্থিক বিশেষজ্ঞ সংস্থা বা স্বীকৃত আর্থিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করেই পা ফেলা ভালো।
[বিঃদ্রঃ এই লেখা শুধুমাত্র তথ্যগত উদ্দেশ্যে। বিনিয়োগের আগে ব্যক্তিগত আর্থিক পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।]
-Debapriya Sengupta & Sukalyan Haldar
Share With
I'm a cool paragraph that lives inside of an even cooler modal. Wins!
In case you didnt know, you can open your account online within 24 hours. Offline account opening takes up to 4 working days. If you wish to open your account offline, fill and sign the forms using a black/blue ballpoint pen. Please fill in the email and mobile number of the applicant to avoid account opening delays.
Please enter your details and password
New to Dayco?
Please enter your details and password
New to Dayco?
Your details were successfully received.
Our Team is working constantly on improving our user experience and your feedback really means a lot.
App Link Send to your mobile number successfully.
All your Questions have been recorded
All your Questions have been recorded
Thank you for your response. We'll get in touch with you at the earlisest for your investment planning needs
Thank You for your interest in our Moderate Equity Portfolio. Please find below the credentials to track this portfolio:
User ID: mockmod@daycoindia.com
Password: abcd@1234
Risk profiling is crucial for identifying and managing potential risks in investment decisions. Please carry out your risk profiling before making any investment decisions.
Please enter your details to download/print the report
Please enter your details to download/print the report
Please enter your details to download/print the report
Please enter your details to download/print the report
Please enter your details to download/print the report
Please Select an option from below
Please Select an option from below
We appreciate your interest in our services. Our team will be in touch with you shortly.
ClosePlease enter your details in the fields provided
Calculation report has been sent to your mail id successfully
This will remove your answers from all questions and cannot be undone.
Leave a Reply